চীনে মে মাসে সৌদির অপরিশোধিত জ্বালানি তেল রফতানি বাড়ার পূর্বাভাস

সৌদি আরবের অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের রফতানি মে মাসে চীনের বাজারে উল্লেখযোগ্য হারে বাড়তে চলেছে।

সৌদি আরবের অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের রফতানি মে মাসে চীনের বাজারে উল্লেখযোগ্য হারে বাড়তে চলেছে। সম্প্রতি সৌদি রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানি আরামকো মূল্যহ্রাস করায় চীনের জ্বালানি তেল পরিশোধনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে চাহিদা বেড়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। রয়টার্স।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, মে মাসে চীনে সৌদি আরব প্রায় ৪ কোটি ৮০ লাখ ব্যারেল জ্বালানি তেল রফতানি করবে, যা এপ্রিলের ৩ কোটি ৫৫ লাখ ব্যারেল থেকে ৩৫ দশমিক ২১ শতাংশ বেশি। এটি ২০২৪ সালের পর সর্বোচ্চ ও চলতি বছরে চীনের জন্য প্রথম বড় সরবরাহ বৃদ্ধি।

চীনের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানি সিনোপেক, চায়না ন্যাশনাল অফশোর অয়েল করপোরেশন (সিএনওওসি) ও বেসরকারি শেংহং পেট্রোকেমিক্যাল মে মাসে সৌদি তেলের আমদানি বাড়াবে। যদিও আরামকো ও সিএনওওসি তাদের বরাদ্দ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে মন্তব্য করেনি। তবে বাজারসংশ্লিষ্টরা বরাদ্দের তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

চাহিদা বাড়ার পেছনে রয়েছে ‘আরব লাইট ক্রড’ আদর্শের অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের আনুষ্ঠানিক বিক্রয় মূল্য (ওএসপি) কমানোর সিদ্ধান্ত। আরামকো মে মাসের জন্য প্রতি ব্যারেলের দাম ওমান ও দুবাইয়ের গড় মূল্যের চেয়ে মাত্র ১ ডলার ২০ সেন্ট বেশি নির্ধারণ করেছে, যা গত এপ্রিল থেকে ২ ডলার ৩০ সেন্ট কম ও চার মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন।

দাম কমানোর ঘোষণা এসেছে ঠিক সে সময়, যখন জ্বালানি তেল রফতানিকারক দেশগুলোর সংগঠন ওপেক প্লাস মে মাসে দৈনিক ৪ লাখ ১১ হাজার ব্যারেল উৎপাদন বাড়ানোর ঘোষণা দেয়। বিশ্লেষকরা বলছেন, সরবরাহ বাড়িয়ে বিশ্ববাজারে মূল্য স্থিতিশীল রাখার লক্ষ্যেই এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, ওপেক প্লাসভুক্ত দেশগুলো বিশ্ববাজারের জ্বালানি তেল চাহিদার ৪০ শতাংশ পূরণ করে।

বর্তমানে রাশিয়ার পর সৌদি আরব হলো চীনের দ্বিতীয় বৃহত্তম অপরিশোধিত তেল সরবরাহকারী দেশ। চলতি বছরের প্রথম দুই মাসে চীন সৌদি আরব থেকে ৮ কোটি ৪৩ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি করেছে, যা আগের বছরের তুলনায় ১৩ শতাংশ কম।

বিশ্লেষকদের মতে, দামে ছাড় ও সরবরাহ বৃদ্ধির ফলে পরিশোধনকারীরা কিছুটা স্বস্তি পাবে। একই সঙ্গে ইরান বা ভেনিজুয়েলার ওপর নিষেধাজ্ঞা বাড়লে এ অতিরিক্ত সৌদি সরবরাহ বাজার স্থিতিশীল রাখতে সহায়ক হবে।

আরও